শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় তানজিলা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয়ভাবে ইয়াবা কারবারি ও বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাদক সম্রাট নামে খ্যাত রাসেল বেপারী এবং তার ছেলে অপু বেপারীর নাম।
ঘটনাটি উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের পাগলার মোড় এলাকায়। নিহত তানজিলা একই উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আকবর আলী খানের মেয়ে।
পরিবারের ভাষ্য, গত ২৩ এপ্রিল অপু বেপারীর নিজ বাড়ি থেকে তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত অপু বেপারী ও তার বাবা রাসেল বেপারী আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এতে এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাসেল বেপারী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও ঘড়িসার বাজারে একটি চায়ের দোকানে কাজ করতো ও সাধারণ জীবনযাপন করলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান তিনি,যার ফলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ । এলাকাবাসীর দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন শাখার নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাসেল বেপারীর ছেলে অপু বেপারীও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নড়িয়া সরকারি কলেজ শাখার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। তিনি কিশোরী তানজিলাকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেফ”তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিহত তানজিলার ভাই বোন জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী । এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ এ হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার দাবী করে।